নিকলী উপজেলা প্রতিনিধি : হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ধনু ও ঘোড়াউত্রা নদী হয়ে মেঘনা পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দিকনির্দেশনা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্যস্ত এই নৌরুটে বর্তমানে মাত্র একটি ‘বয়রা’ (সংকেত বাতি) থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত নৌযান।
জানা যায়, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ছাতক থেকে ভৈরব হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই নৌপথ। প্রতিদিন এ পথে পাথর, কয়লা ও বালুবাহী অসংখ্য কার্গো জাহাজ, স্টিমার এবং যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল করে। অথচ দীর্ঘ এই নৌপথে দিকনির্দেশনার জন্য রয়েছে কেবল নিকলীর ছন্তিঘাট এলাকায় স্থাপিত একটি বয়রা।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে চারদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ও হাওরের সীমানা বিলীন হয়ে যায়। এতে পানির নিচে থাকা ডুবোচর ও ভাঙনকবলিত এলাকা নৌযানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর ও গভীর রাতে দিকভ্রান্ত হয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় নৌযান।
নৌযান চালকদের অভিযোগ, একটি বয়রার সংকেত সীমিত দূরত্বে কার্যকর হওয়ায় দীর্ঘ নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রায়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন আইন অনুযায়ী ব্যস্ত নৌপথে পর্যাপ্ত বীকন বাতি ও নেভিগেশনাল সিগন্যাল স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও নিকলী-ভৈরব নৌরুটে এ ধরনের ব্যবস্থা অপ্রতুল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু প্রাণহানিই নয়, দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয় এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়। তাই নিকলী থেকে মেঘনা মোহনা পর্যন্ত অন্তত ৪ থেকে ৫টি নতুন বয়রা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌযান সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহলের দাবি, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ধনু ও ঘোড়াউত্রা নদীর গুরুত্বপূর্ণ বাঁক এবং মেঘনার সংযোগস্থলে দ্রুত বয়রা ও সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হলে নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনগণ।

