নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোরে কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবককে নরসিংদী জেলার মাধবদীর মৃত জাকের মৃধার ছেলে শান্ত (২১) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুরের রিফাত (২৩), বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদির রুবেল (৩০), এবং ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের আব্দুল্লাহ (২৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত তিন যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে রামচন্দ্রপুর গ্রামে একটি পিকআপ ভ্যানে করে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী গরু চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। গ্রামের লোকজন তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে কয়েকজন পিকআপ ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, চারজন এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েন। উত্তেজিত জনতা এরপর তাদের উপর গণপিটুনি চালায়। এই গণপিটুনিতে শান্ত নামের এক যুবক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বাকি তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সৈয়দ শহিদুল ইসলাম জানান, “আহতদের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শান্তকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল এবং বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।”
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, নিহত শান্তর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, আইন হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর করা বা গণপিটুনি দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে।

