গাজীপুর প্রতিনিধি: টঙ্গীর একমাত্র তিন তারকা হোটেল জাবানে মদ বিক্রি করতে অস্বীকার করায় হোটেল কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীরা এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর স্টেশন রোডে অবস্থিত জাবান হোটেলটি দেশি-বিদেশি অতিথিদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এটি স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।
গত বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হোটেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, উত্তরা থেকে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী হোটেলে আসে। তারা প্রথমে নাস্তা করার কথা বলে হোটেলের ১০ তলার রেস্তোরাঁয় যায়। এরপর সেখান থেকে তারা জোরপূর্বক ৯ তলার বার কাউন্টারে প্রবেশ করে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর বিদেশি হুইস্কি দাবি করে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ায় এবং একই কক্ষে ৬ জন পুরুষ ও একজন নারীকে থাকার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে তারা মদ বিক্রি করতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা হোটেলের ম্যানেজার আজিজ ও অন্যান্য কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। মারধরের পর তারা কাউন্টার থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় হোটেলের আইটি ম্যানেজার মো. রাকিব হাসান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে আজাদ (২৯), মো. রিমন (৩৮), জাহিদ (৩২), সুব্রত (৩০), রোজা (২৫) সহ আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, হামলাকারীরা সিলেটের বাসিন্দা এবং তারা প্রায়শই ঢাকার গুলশান, বনানী ও উত্তরায় বিভিন্ন বারে যাতায়াত করে। তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপান করে মাতলামি ও রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযুক্তদের একজন মো. রিমন জানান, তারা সেদিন সকালে নাস্তা করার জন্য জাবান হোটেলে গিয়েছিলেন। তবে হোটেলের পরিচালক সায়মন বলেন, তাদের রেস্তোরাঁয় সকালে কোনো নাস্তা বিক্রি হয় না। তার মতে, হোটেলের সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মো. রিমন নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করে বলেন, তিনি কেন টাকা ছিনিয়ে নেবেন? তিনি আরও জানান, তারাও এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

