কিশোরগঞ্জের ভৈরবকে ছিনতাই মুক্ত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করে ছাত্র যুব সমাজ পুলিশের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে শাড়ি চুড়ি নিয়ে শ্লোগান দেয় ” ছিনতাই মুক্ত ভৈরব দে, নইলে তোরা শাড়ি নে ”
ভৈরবে দিনে রাতে ছিনতাই ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে ভৈরবে র্স্বস্তরের জনগণ। আজও ভোরে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া একটি পরিবারকে জখম করে ছিনিয়ে নিয়ে লক্ষাধিক টাকা স্বর্ণ লংকারসহ মুল্যবান সামগ্রী। ফলে ওই পরিবারের চিকিৎসার জন্য আর ঢাকায় যাওয়া হয়নি। এরই প্রেক্ষিতে আজ বিকালে ছাত্র ও যুব সমাজ এক বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে পুলিশের জন্য শাড়ি চুড়ি নিয়ে থানায় হাজির হয়ে ওসিকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র নেতা আজহারুল ইসলাম রিদম বলেন, আমরা ছিনতাই মুক্ত নিরাপদ ভৈরব চাই। আজও ভোরে পুরো একটি পরিবার ছিনতাইকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। প্রতিদিন শহরের কোথাও না কোথাও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছেই। পুলিশের নিরব ভুমিকা আর ছিনতাইকারীদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট হয়ে বাধ্য হয়েছি পুলিশের জন্য শাড়ি চুড়ি নিয়ে থানায় আসতে।
আগামী ৩ দিনের মধ্যে ভৈরবকে ছিনতাই মুক্ত করতে পুলিশ ব্যার্থ হলে আমরা থানার সকল পুলিশ সদস্যকে শাড়ি চুড়ি উপহার দেব। ভৈরব এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। ছিনতাই মুক্ত করতে আমরা এ পর্যন্ত ৮ বার সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছি। ভৈরবের প্রশাসন যদি ছিনতাই মুক্ত করতে ব্যার্থ হয় তাহলে আমরা ভৈরববাসী মিলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামব।
এসময় ছাত্র ও যুবসমাজের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র নেতা আজহারুল ইসলাম রিদম, নুরে আলম নিলয়, মওলানা শাহরিয়ার মোস্তাফায়, রিয়াদ ইসলাম, হান্নান আহমেদ হিমুসহ বেশ কয়েকজন নেতা।
ছাত্র নেতা আজহারুল ইসলাম রিদম বলেন, আমরা ভৈরবে নিরাপদে নেই। আজকে সকালেও ভৈরবে ছিনতাই হয়েছে। ভৈরব থানা পুলিশ ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। আজকে আমরা থানা পুলিশের জন্য শাড়ি ও চুড়ি নিয়ে আসেও তাদের দেয়নি। তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছি।
উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশে যুব নেতা নুরে আলম নিলয় বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে আমরা অষ্টম দফায় ছিনতাই বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে করেছি। আর আমরা বিক্ষোভ সমাবেশে করবো না। ভৈরবে প্রশাসন জন যদি ছিনতাই নির্মূল করতে না পারে আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠিন আন্দোলনে নামবো।
জানা যায়, আজ শনিবার (২ আগস্ট) সকাল পৌনে ৬টায় দিনের আলোয় জনসম্মুখে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া একটি পরিবার। অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসা দিতে সকাল ৬টায় ঢাকাগামী তিতাস ট্রেনে যেতেই পৌর কবরস্থান এর সামনে ছিনতাই কবলে পড়ে পরিবারটি। এসময় তাদের আহত করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় ছয় সদস্যের ছিনতাই চক্রের সদস্যরা। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগ সকালে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে এএস আই ফরিদুজ্জামান অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। থানায় প্রতিকার না পেয়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী ফারদিন খান। পরে ভৈরবে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জের ধরে বিকাল চারটায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ভৈরবের ছাত্র ও যুব সমাজের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানি বলেন, আজ সকাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যে নাঈম মিয়া (২৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাইম শহরের পঞ্চবটি এলাকার মৃত গোলাপ মিয়া ছেলে। নাইমের দেয়া তথ্য মতে বাকিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে। ছাত্র ও যুব সমাজ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানা আসার বিষয়টি দুঃখজনক। তবে আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভৈরবে ছিনতাই নির্মূল করা হবে৷


