বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ৩২ হাজার সিরিয়াল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়ে পোষ্য কোটার মাধ্যমে ভর্তি হয়েছেন। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তিনি মাত্র ৪০ নম্বর পেয়ে প্রথমে বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগে ভর্তি হন এবং পরে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে জীববিজ্ঞান অনুষদে স্থান পান। এ বছর ওই অনুষদে মেধাতালিকার সর্বশেষ শিক্ষার্থী ৫০৩৫ সিরিয়াল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছেন মোট তিনজন শিক্ষার্থী। উপাচার্যের মেয়ে ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কর্মকর্তার ছেলে এবং ইলেকট্রিশিয়ান আরিফ হোসেন সুমনের ছেলে একই কোটায় জীববিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হয়েছেন। পোষ্য কোটাসহ অন্যান্য বিভিন্ন কোটায় মোট ২১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।

গত বছর শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি করেছিল, তবে এবার উপাচার্যের মেয়ের ভর্তি হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন ওঠেছে। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, যদি উপাচার্যের সন্তান মেধার ভিত্তিতে ভর্তি না হন, তাহলে কেন তাকে কোটা সুবিধা দেওয়া হবে? সাধারণ প্রান্তিক কৃষকের সন্তানদের জন্য কেন এই সুযোগ নেই, সেটিও তারা জানতে চেয়েছেন।
এই বিষয়ে ভর্তি টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক জানান, ভর্তি গুচ্ছের নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং পাস মার্ক অতিক্রম করলেই কোটা ব্যবহার করা যায়। উপাচার্যের মেয়ে কোনো বাড়তি সুবিধা পাননি।
চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১৮ জন। এদের মধ্যে প্রতিবন্ধী, হরিজন, দলিত, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

