পূর্বাচলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: ১৪৪ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কালীগঞ্জে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৪ ও ২৫ নম্বর সেক্টরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ৪৪টি পরিবারের ১৫৫টি অবৈধভাবে নির্মিত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৪৪ একর শালকপিচ সমৃদ্ধ বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা সরকার বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
গাজীপুর জেলা ও কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব, পুলিশ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং বন বিভাগের শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৪ ও ২৫ নম্বর সেক্টরের এই এলাকাকে শালকপিচ সমৃদ্ধ ভূমি ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সরকার বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের কেটুন ও পারার্বতা এলাকার কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই জমি অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে তাদের সরকারিভাবে এখান থেকে চলে যেতে বলা হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ জুলাই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন অধিশাখা-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব জোনায়েদ কবীর সোহাগ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ২২(১) ধারার ক্ষমতাবলে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল পূর্বাচল প্রকল্পের আওতাধীন ১৪৪ একর শালকপিচ সমৃদ্ধ বনভূমির সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে টিনশেড, আধাপাকা ও পাকা স্থাপনাও ছিল।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অভিযান পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা ও প্রকল্পের জমি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

অভিযান চলাকালীন উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তনিমা আফ্রাদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরী তাসমিন ঊর্মী, বিজিবি’র সুবেদার মো. আবুল কালাম আজাদ, র্যাব-১ ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ওয়াদুদ, পুলিশ ইন্সপেক্টর মেহেদী হাসান, বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারভাইজার মেহেদী হাসান, রাজউক কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান শাহীন প্রমুখ।
এই সংবাদটি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশের জন্য উপযুক্ত। যদি আপনার আরও কোনো পরিবর্তন বা সংযোজনের প্রয়োজন হয়, তবে আমাকে জানাতে পারেন।
