ঢাকারবিবার , ৩১ আগস্ট ২০২৫
  • অন্যান্য
  1. ইতিহাস
  2. জাতীয়
  3. ধর্ম
  4. প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. মতামত
  8. রাজনীতি
  9. শিক্ষাঙ্গন
  10. সর্বশেষ
  11. সারাদেশ
  12. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

তা’মীরুল মিল্লাতে আন্দোলনের জেরে শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল ও হয়রানির অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ৩১, ২০২৫ ৩:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর থেকে অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলনের পর তাদের ওপর চলছে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা, মানসিক চাপ ও হয়রানি।

গত ৩০ জুলাই রাতে হোস্টেল সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন হোস্টেল শিক্ষার্থীরা। শুরুতে শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা হলেও ব্যর্থ হয়। পরে ছাত্র সংসদের হস্তক্ষেপে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। পরদিন আলোচনায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান দাবির ১৩টির মধ্যে ১২টি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

তবে আন্দোলন থামার পর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ, হুমকি এবং নানা ধরনের হয়রানি। শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল, টিসির হুমকি, শিক্ষক কক্ষে ডেকে মানসিক চাপে ফেলার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের নেতাদের চিহ্নিত ও দমন করার উদ্দেশ্যে।

বিশেষ করে শরীয়ত উল্লাহ হল ও তিতুমীর হলের শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তা ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। শরীয়ত উল্লাহ হলের ১১২ নম্বর কক্ষের আট শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করা হয়, যদিও তারা সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছিলেন বলে দাবি। তুচ্ছ কারণে, যেমন—জানালার পাশে জুতার বক্স রঙ করার অভিযোগ তুলে তাদের শাসানো হয় এবং আন্দোলনের নেতাদের নাম বললে পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ফেল না করেও সিট হারিয়েছেন, অথচ প্রভাবশালী শিক্ষকের আত্মীয় একাধিক বিষয়ে ফেল করেও সিট বজায় রাখতে পেরেছেন।

হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ইসলামি আন্দোলনবিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা ব্লক শিক্ষক ক্বারী তানভীর ও প্রভাষক আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ আছে, আন্দোলনের পর বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে এবং ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রভাষক আতিকুর রহমান ও শিক্ষক শাহজাহান আলী শিক্ষার্থীদের অফিসে ডেকে এনে আন্দোলনের পেছনের তথ্য জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে রাত পর্যন্ত বসিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া, গত ২৬ আগস্ট আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বেতনসহ অন্যান্য দাবিতে অনলাইনে ক্যাম্পেইন শুরু করলে, দাবি প্রকাশের আগেই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের হুমকির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ উঠে।

শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরেও যে দমন-পীড়ন চলছে তা অনৈতিক ও অনগ্রহণযোগ্য।

তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করেছে। এরপর তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি অন্যায়। যদি কোনো শিক্ষার্থীর সিট কাটা হয়ে থাকে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া, আমরা ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে পাশে থাকব।’

তবে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন হোস্টেল সুপার মাওলানা নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কোনো বিষয় নেই, সিট কাটা হয়েছে নানান অনিয়ম ও ফেল করার কারণে।’

অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান বলেন, ‘কারো সিট কাটা হয়নি, যারা চলে গেছে তারা পরীক্ষা শেষ করে চলে গেছে।’ আন্দোলনের জেরে মানসিক চাপে শিক্ষার্থীরা রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, ‘এভাবে মোবাইলে বলা যাবে না, সরাসরি এসে কথা বলুন।’

এ বিষয়ে মাদ্রাসার তদারকি কমিটির সদস্য অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এগুলো মোবাইলে বলার বিষয় নয়।’

উল্লেখ্য,এর আগে গত ৩ আগস্ট আলিম পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষক ড. সালমান ফার্সীর বিরুদ্ধে হল সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র জব্দের অভিযোগ উঠেছিলো।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।