পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

বাতিল হচ্ছে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনসহ ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স!

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম
মোঃ আব্দুল কাইয়ুম , নির্বাহী সম্পাদক প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম

প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় জোর দিতে পরিবর্তন আসছে অনার্স ও স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে। বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কয়েকটি প্রচলিত অনার্স বিষয় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী এসব বিষয়কে পৃথক বিভাগ হিসেবে না রেখে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোর পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন দক্ষতা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কলেজ পর্যায়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগও বাড়ানো হতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়গুলো এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এদিকে দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধু সনদ অর্জনের পরিবর্তে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন।

নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষার সময়কাল কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি কাটাতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চিন্তা করা হচ্ছে।

সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব বাড়ানো হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে বিদ্যমান শিক্ষাক্রম সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ করা হবে। আর ২০২৮ সালে আরও ব্যাপক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমাতে এবং শিক্ষাকে কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ সময়ের দাবি।