মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর ডোবায় মিলল অটোচালকের অর্ধগলিত লাশ
জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের দুইদিন পর জহুরুল ইসলাম (৫০) নামে এক অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাথাভাঙা মোড়ের প্রায় ৫০০ মিটার পশ্চিমে সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জহুরুল ইসলাম উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরচর এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশিষ রায়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে ঘুঘুমারী এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে বালিজুড়ী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন জহুরুল ইসলাম। পথে আমলীতলা এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
এদিকে আমলীতলা এলাকার সড়কের পাশে অটোরিকশাটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে অটোরিকশাটিতে মরিচের গুঁড়া পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জহুরুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মাথাভাঙা মোড়ের পশ্চিম পাশে ডোবায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জহুরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।
মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, “স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশাচালক জহুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অটোরিকশাটি উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জহুরুল ইসলামকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
