পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

অপহৃত ২ বছরের শিশু টাঙ্গাইলে উদ্ধার, গৃহকর্মী গ্রেপ্তার।

মোঃ শাহীনুল হক
মোঃ শাহীনুল হক , স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাথীন পলাশ বাড়ি বটতলায় চাকরীজিবী এক মা বিশ্বাস করে শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন গৃহকর্মীর হাতে। কিন্তু সেই গৃহকর্মীই দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে উধাও হন। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে সন্তানের খোঁজে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সূত্র ধরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে অপহৃত শিশু মীম আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্মী মোছা. বেলী বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানাধীন খালপাকুটিয়া দেওলাবাড়ি এলাকায় এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১৪ এর যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার ও এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির পরিবার আশুলিয়া থানাধীন পলাশবাড়ী বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। শিশুটির মা রাবেয়া আক্তার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। কর্মস্থলে থাকাকালে মেয়েকে দেখাশোনার জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর বেলী বেগমকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি। এরপর থেকে শিশুটিকে বাসায় দেখাশোনা করতেন ওই নারী। ঘটনার দিন ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে একটার দিকে শিশুটিকে বেলীর কাছে রেখে পরিবারের সদস্যরা কাজে যান। রাতে প্রায় ১০টার দিকে বাসায় ফিরে তাঁরা দেখেন, শিশু মীম ও গৃহকর্মী কেউই বাসায় নেই। আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের সন্ধান না পেয়ে শিশুটির মা আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই শিশুটিকে উদ্ধার এবং নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪, সিপিসি-২ নবীনগর ক্যাম্প। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তবে অভিযুক্ত নারীর অবস্থান শনাক্ত করা সহজ ছিল না। স্থানীয় বাড়িওয়ালা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেও তাঁর সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বেলী বেগমের একটি পুরোনো বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশের সূত্র ধরে টাঙ্গাইলের একটি ঠিকানা পাওয়া যায়। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই ঠিকানায় বসবাস করেন না।

পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর তৃতীয় স্বামীর বর্তমান ঠিকানা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে ঘাটাইলের খালপাকুটিয়া দেওলাবাড়ি এলাকায় অবস্থান শনাক্ত করে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১৪ এর যৌথ দল অভিযান চালায়। অভিযানে বেলী বেগমকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর হেফাজত থেকে দুই বছরের শিশু মীমকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক বলেন, শিশু অপহরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় ভিকটিমকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করাই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ঘটনার পর থেকেই সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। ধারাবাহিক অনুসন্ধান এবং এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১৪ এর সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, গ্রেপ্তার বেলী বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। শিশুটিকে কী উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।