নবীগঞ্জে সেভ লাইফ ব্লাড ডোনেট সোসাইটির ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
প্রতিদিন অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী এক ব্যাগ রক্তের জন্য জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করেন। একজন মানুষের স্বেচ্ছায় দান করা রক্ত বাঁচাতে পারে আরেকজনের মূল্যবান জীবন, হয়ে উঠতে পারে একটি অসহায় পরিবারের শেষ আশার আলো।
রক্তের সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ লাইফ ব্লাড ডোনেট সোসাইটি’। এরই ধারাবাহিকতায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে সংগঠনটির ৩৮তম বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় মেগা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দিস্থ দক্ষিণ দৌলতপুর হযরত শাহ জালাল লতিফিয়া আইডিয়াল (ক্যাডেট) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পেইনে সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভাগীয়, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিট শাখার স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। মাদ্রাসার কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল কদ্দুছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি মজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া হযরত সৈয়দ শাহ শায়দা (র.) দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা ফয়েজ আহমদ নোমান।
ক্যাম্পেইনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেভ লাইফ ব্লাড ডোনেট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুর রহমান মুরাদ। এ ছাড়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মো. সায়েক আহমেদ।
আয়োজকরা জানান, বর্তমানে দেশের ৪২টি জেলায় সেভ লাইফ ব্লাড ডোনেট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা রক্তের সংকটে থাকা রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদানে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তারা আরও জানান, মানবিক এ কার্যক্রম দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সংগঠনটি। ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে রক্তের সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগীদের রক্তের চাহিদা পূরণে আরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসবেন।
