আশুলিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার
ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়ায় সন্ধ্যায় ভাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছিলেন রোকসানা বেগম (৪০)। এরপর নির্মাণাধীন নিজ বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংকি দেখতে যান তিনি। দীর্ঘ সময়েও নিচে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ছাদে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন।
পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় নিজ বাড়ির ছাদে এভাবেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। তবে কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রোকসানা বেগম গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার দক্ষিণ পাকুল্লা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মকবুলের স্ত্রী। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি স্বামীর নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ছেলে আলিফ ও মেয়ে মীমকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পানির ট্যাংকি দেখতে বাড়ির ছাদে যান রোকসানা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নিচে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে ছাদে গিয়ে ভবনের এক পাশে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ সময় স্বজনদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে আশুলিয়া থানা ও ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহতের ভাই মো. ইরাক বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুঠোফোনে বোনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছিলেন রোকসানা। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বোনের মৃত্যুর খবর পান। তিনি বলেন, আমার বোনের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। তারপরও কেন এমন হলো, আমরা বুঝতে পারছি না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
হত্যাকাণ্ডের স্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে কীভাবে রোকসানা হামলার শিকার হলেন, ঘটনার সময় সেখানে অন্য কেউ ছিল কি না, হত্যার পর জড়িতরা কোন পথে পালিয়ে গেছে- এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়, সম্ভাব্য পূর্ববিরোধ এবং ভবনটিতে আসা-যাওয়া করা ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বপরিকল্পিত হামলা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে- তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নিজ বাড়ির ছাদে একজন নারীকে এভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
