গাঁজা সেবনের অভিযোগ ঘিরে সিনিয়র জুনিয়র সংঘর্ষ, উত্তপ্ত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) বিদ্রোহী হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আইন ও বিচার বিভাগের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত অপর শিক্ষার্থীও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার (২১ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী হান্নান আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (১৩তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্রোহী হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে হান্নান ও দর্শন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ একসঙ্গে থাকতেন। মুগ্ধের বিরুদ্ধে গাঁজা সেবনের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি হল প্রশাসনের নজরে আনেন হান্নান।
অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম কক্ষটি পরিদর্শন করেন। তবে পরিদর্শনের সময় কোনো ধরনের আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পরে হান্নান কক্ষে ফিরে অ্যাশট্রেতে গাঁজার অবশিষ্টাংশ দেখতে পান বলে দাবি করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হান্নান মুগ্ধকে চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাতে বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী হান্নানের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
হামলায় গুরুতর আহত হলে হান্নানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হলের হাউজ টিউটর খাইরুল ইসলামও আহত হন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, হাতাহাতির সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীর লাথিতে তিনি আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার জেরে আইন ও বিচার বিভাগ এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, রাত ১২টার দিকে আইন ও বিচার বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী অগ্নিবীণা হলে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের খুঁজতে যান। সেখানে কাউকে না পেয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এলোমেলো করার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
