পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

রাসায়নিক সার এর বিকল্পে জৈব সার: তরুণ উদ্যোক্তা আতিকুর রহমানের ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ

মো: আতিকুর রহমান
মো: আতিকুর রহমান , উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর এলাকায় এক তরুণ উদ্যোক্তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি গড়ে তুলতে তিনি তৈরি করছেন জৈব সার এবং নিজেও নিয়মিত তা ব্যবহার করছেন।

তরুণ উদ্যোক্তা মো: আতিকুর রহমান ২০২৪ সাল থেকে জৈব সার তৈরির কাজ শুরু করেন। তিনি ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং বর্তমানে অনার্সে বাংলা বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছেন। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় কৃষি ও সারের ব্যবহার সম্পর্কে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আতিকুর রহমান জানান, “রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর দিকগুলো জানার পর থেকেই আমি এর ব্যবহার বন্ধ করে দিই। এরপর নিজেই জৈব সার তৈরি শুরু করি এবং তা ব্যবহার করি। পরে পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি বুঝিয়ে বলি। এখন তারাও রাসায়নিক সার ব্যবহার থেকে সরে এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই ধীরে ধীরে পুরো বাংলাদেশে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসুক। পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজেকে দিয়ে, তারপর পরিবার, সমাজ এবং একসময় পুরো দেশ পরিবর্তন সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৯ জুন প্রায় ৭০ জন কৃষক-কৃষাণীকে নিয়ে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর দিক এবং জৈব সারের উপকারিতা তুলে ধরা হয়। বৈঠকের পর অনেক কৃষক রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এটিকেই তিনি তার অন্যতম বড় সাফল্য বলে মনে করেন।

এই তরুণ উদ্যোক্তা আরও জানান, বর্তমানে তার জৈব সার উৎপাদন স্বল্প পরিসরে চললেও ভবিষ্যতে এটি আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি চাই জৈব সার উৎপাদনকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যেখানে স্থানীয় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষের মাঝে জৈব সারের চাহিদা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।”

তিনি আরও জানান, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন এবং জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এ বিষয়ে আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠনের সভাপতি জনাব আনিসুর রহমান বলেন, “আমাদের সংগঠনের সহ-সভাপতি মো: আতিকুর রহমান অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী একজন তরুণ। সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি তিনি যেভাবে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দেশ পরিবর্তন করতে হলে আগে নিজেকে, তারপর পরিবার ও সমাজকে পরিবর্তন করতে হয়—আতিকুর রহমান সেই কাজটিই করে চলেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।”

এলাকার সাধারণ মানুষও এই তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অল্প বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি ও সচেতনতা তৈরিতে তার ভূমিকা স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, তরুণদের এমন উদ্যোগ দেশের কৃষি, পরিবেশ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।