পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

ফসলি জমি দখল করে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ, নিকলীতে কৃষকদের সংবাদ সম্মেলন

আল-আমিন হাসান
আল-আমিন হাসান , উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বরুলিয়া মৌজার রোকসা বন্দ এলাকায় কৃষকদের ফসলি জমি দখল করে জোরপূর্বক ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী কৃষকরা শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নিকলী থানা-য় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দরগাহাটি গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কৃষক মো. খুর্শিদ। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকজন প্রান্তিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, রোকসা বন্দ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধার জন্য একটি স্থায়ী ড্রেন চালু রয়েছে। তবে তা উপেক্ষা করে নতুন করে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে ড্রেন খননের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে বহু কৃষকের আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দরগাহাটি গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে কৃষকদের অনুমতি ছাড়াই এই ড্রেন নির্মাণ করছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযুক্তদের নিজস্ব কোনো আবাদি জমি বা স্বত্ব নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

কৃষক মো. খুর্শিদ অভিযোগ করেন, ড্রেন নির্মাণে বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন বলেন, তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির ওপর দিয়ে ড্রেন নেওয়া হলেও জমির মালিক হিসেবে তাকে কোনো ধরনের অবহিত করা হয়নি। তিনি এটিকে জমির মালিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাইদুর রহমান বলেন, আগে থেকেই কার্যকর ড্রেন থাকা সত্ত্বেও নতুন করে কৃষিজমি কেটে ড্রেন নির্মাণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে বহু সাধারণ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরেক কৃষক সুমন মিয়া দাবি করেন, প্রস্তাবিত ড্রেন নির্মাণ হলে তাঁর প্রায় পাঁচ একর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে এলাকার অনেক দরিদ্র কৃষক জীবিকার উৎস হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এক বিধবা নারী বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে। তিনি জানান, সামান্য এই জমির আয়ের ওপর নির্ভর করেই তার পরিবারের জীবিকা চলে। জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবারটি মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি দ্রুত সরেজমিন তদন্তের আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ ও তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।