পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

বিজিবির অভিযানে ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা

কামরুল ইসলাম
কামরুল ইসলাম , বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ০২:১০ পিএম
সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (৩১ মে) ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর হোয়াইক্যং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সীমান্তবর্তী ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ৪-৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের গতিবিধি নজরে আসে বিজিবি সদস্যদের।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর বিজিবি সদস্যরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের গতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা তাদের সঙ্গে থাকা মাদকের চালান ফেলে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে একটি পলিথিনে মোড়ানো খাকি রঙের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে নীল রঙের বায়ুরোধী ৮টি পৃথক প্যাকেট রয়েছে। এসব প্যাকেটের ভেতর থেকে মোট ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিজিবি আরও জানায়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হলেও এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং অন্য কোনো অবৈধ মালামালও পাওয়া যায়নি।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন,”পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,”বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ শুধু সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না, বরং মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্তকে মাদকমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে একের পর এক বড় মাদকের চালান উদ্ধার হচ্ছে। এতে সীমান্তপথে মাদক পাচারকারীদের কার্যক্রম কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মাদক সিন্ডিকেট সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, মাদক দমন এবং চোরাচালান রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়ি য়েছে বাহিনীটি।