পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

মাদারগঞ্জে কিশোরী রুপসী হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রেমিক জিহাদ গ্রেফতার

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান , উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়নের জেরে রূপসী আক্তার নামে এক কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মো. আল জিহাদ (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার আল জিহাদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকার আল মামুন আহমেদের ছেলে। সোমবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে মেলান্দহ-ইসলামপুর সীমান্তবর্তী হারগিলা বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট রাতে প্রেমের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে কথা বলার কথা বলে রূপসীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন আল জিহাদ। পরে তাকে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় শাকিলের সেচপাম্পের পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড পাম্প হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আল জিহাদ রূপসীর গলায় তার পরনের ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন বলে পুলিশের তদন্তে জানা যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরদিন ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা ও মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশিস রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পাম্প হাউজের ভেতর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ছায়ের উদ্দিন বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভুইঞার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ওসি স্নেহাশিস রায়ের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) হাসিব আল মাহফুজ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে তদন্ত চালান।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে মেলান্দহ-ইসলামপুর সীমান্তবর্তী হারগিলা বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে আল জিহাদকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ বলছে, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশিস রায় বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে কাজ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পরে আদালতে পাঠানো হলে আল জিহাদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিহত কিশোরীর বাবা ছায়ের উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, অপরাধের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।