সাভারে বিদেশি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার ৩।
ঢাকার সাভারে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড তাঁজা গুলিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪ টায় সাভার পৌরসভার পশ্চিম রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সাভার পৌরসভার রাজাশন ঢালাইমোড় এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে হোসেন ওরফে ইমাম হোসেন (২২), পশ্চিম রাজাশন এলাকার ওমর ফারুকের ভাড়াটিয়া মোঃ বুলবুল এর ছেলে পিয়াল ওরফে সামিউল ইসলাম (২২) ও মধ্য রাজাশন এলাকার রিপন ওরফে জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ইমন (২৪)।
এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হোসেন ওরফে ইমাম হোসেন এবং সাভার থানা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারা উভয়ে মামা-ভাগিনা বলে জানা গেছে। হোসেনের সঙ্গে সামিরের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সামিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আল আমিন নামে এক যুবকের সঙ্গে হোসেনের মারামারির ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই একে অপরের অপকর্মের তথ্য পুলিশের কাছে ফাঁস করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আর সেই বিরোধের জেরেই একে একে পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন এসব অস্ত্রধারী ও অপরাধে জড়িতরা।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান ভুঁইয়া।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পশ্চিম রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান ভুঁইয়া, এএসআই কামাল বাসার ও এএসআই নেছার উদ্দিনসহ পুলিশের একটি চৌকস দল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকার মৃত ওমর পালোয়ানের বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই তিনজন পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁদের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় হোসেন ওরফে ইমাম হোসেনের কোমরের ডান পাশে গোঁজা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া যায়। পিস্তলটির হাতলের দুই পাশে সোনালি রঙের স্টিলের বাট রয়েছে। বাটে ইংরেজিতে ‘KING OF EAGLE’ লেখা রয়েছে। এর সঙ্গে ৮ টি তাজা গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিনও উদ্ধার করা হয়। গুলিগুলোর পেছনে ‘7.65’ লেখা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্রের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা পরস্পর যোগসাজশে অস্ত্র ও গুলি নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হোসেনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় দুটি ও পিয়ালের বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।”
