ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • অন্যান্য
  1. ইতিহাস
  2. জাতীয়
  3. ধর্ম
  4. প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. মতামত
  8. রাজনীতি
  9. শিক্ষাঙ্গন
  10. সর্বশেষ
  11. সারাদেশ
  12. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

ঘুষ ছাড়া ফাইলে সই করেন না প্রকৌশলী!

মোহাম্মদ মারুফ
অক্টোবর ৩০, ২০২৫ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লক্ষীপুর প্রতিনিধি: লক্ষীপুর জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী নাজিমুল হক সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া ফাইলে সই না করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এক ঠিকাদারকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার আবু ছিদ্দিক জানান, ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাতটি রাস্তার কাজ পান তিনি। এর মধ্যে চারটি কাজের বিল উত্তোলনের জন্য গেলে প্রকৌশলী নাজিমুল হক তার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরেই ফাইলে সই করেন তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি তিনটি রাস্তার কাজ বুঝে নিতে গেলে ওই প্রকৌশলী ঠিকাদারকে অফিসে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পরে হিসাবরক্ষকের কক্ষ থেকেও বের করে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামগঞ্জের ঠিকাদার নজরুল ইসলাম জিএস বলেন, “এই প্রকৌশলী মসজিদের বিল থেকেও টাকা খায়। তার অত্যাচারে আমি জেলা পরিষদে টেন্ডার দিই না। ঘুষের টাকা নিয়ে বলেন— বসেন, আমি নামাজ পড়ে আসি।”

আরেক ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন বাপ্পী বলেন, “এই প্রকৌশলী ঘুষ ছাড়া কিছুই বোঝেন না।”

আবু ছিদ্দিক আরও জানান, “কাজগুলো তিনি আমার কাছ থেকে কিনতে চেয়েছিলেন। বিক্রি না করায় নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। বিল আটকে রেখেছেন, তিনটি কাজ এখনো বুঝিয়ে দেননি।”

তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও তিনজন ঠিকাদার বলেন, সহকারী প্রকৌশলীর কাছে সবাই জিম্মি। বিশ্বস্ত কিছু ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজেরাই কাজ করছেন কিছু কর্মকর্তা। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী নাজিমুল হক সরকার বলেন, “আবু ছিদ্দিকের অভিযোগ সত্য নয়। তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন, তাই তাকে চলে যেতে বলেছি। উনার বিলও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি কাজের লোকেশন খুঁজে পাচ্ছি না।”

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার বলেন, “ঠিকাদার কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। হেনস্তা বা ঘুষের বিষয়ে তিনি আমাকে কিছু জানাননি।”

তবে ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে ৩০ লাখ টাকায় জেলা পরিষদ ভবনের গেইট ও নিরাপত্তা দেওয়াল নির্মাণে প্রকৌশলীর সম্পৃক্ততা বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।