পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক কমিটি ঘোষণা, শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৭ এএম

লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় দুই শিক্ষার্থীকে তাদের না জানিয়েই করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটিতে তাদের নাম যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত ছাত্রদলের কমিটি থকে  তাদের নাম প্রত্যাহারের দাবি করেন।

গত মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মেহেরাব হোসাইন অপি ফেসবুকে লিখেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবুও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের লেটারহেডে প্রকাশিত ‘টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা ছাত্রদল কমিটি’র তালিকায় তাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মেহেরাব আরো বলেন, “আমার অজান্তে এই কমিটিতে আমার নাম যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অতি দ্রুত এই কমিটি থেকে আমার নাম বাদ দেওয়ার দাবি করছি।”

একই দিনে একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাকিল হোসেনও অভিযোগ করেন, তাকে না জানিয়ে একই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শাকিল বলেন, “আমি টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার বর্তমান দাখিল দশম শ্রেণির ছাত্র। আমার অজান্তেই আমাকে ছাত্রদল কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তাই আমাকে এই নোংরা রাজনৈতিক ছাত্রদল কমিটি থেকে অতি দ্রুত বাদ দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। টুমচর মাদ্রাসা একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, এখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে পারে না।”

এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা মাদ্রাসার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। প্রায় শতবর্ষী টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় এর আগে কখনো রাজনৈতিক কমিটি গঠনের নজির পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারও নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে যদি রাজনৈতিক কমিটি ঘোষণা করা হয়ে থাকে, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ভুক্তভোগীদের প্রতিবাদের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।