নিকলী উপজেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের মাইজহাটি গ্রামে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত নির্দেশ অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, দামপাড়া মৌজার আরএস ১৮৫৫/২৯৭৯ দাগের ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে মৃত বদর উদ্দিনের পুত্র মহিউদ্দিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ ইসরাফিল গংয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান।
এ সংক্রান্ত ‘সিভিল রিভিশন মোকদ্দমা নং ৪০৫৭/২০২৫’ বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ওপর পূর্বের স্থিতাবস্থা বহাল রাখার আদেশ আরও এক বছরের জন্য বর্ধিত করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিবাদীপক্ষের কামাল হোসেন একদল লোক নিয়ে বিতর্কিত জমিতে কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের আদেশের বিষয়টি অবহিত করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এ সময় বিবাদীপক্ষ তাদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে কামাল হোসেন তার ছেলে আলমগীর হোসেনকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আবু সিদ্দিক সর্দারসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ থাকা সত্ত্বেও জমিতে কাজ শুরু করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিবাদীপক্ষের আচরণ ছিল উগ্র ও আক্রমণাত্মক। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলেও তারা জানান।
এদিকে অভিযুক্ত কামাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইনগত প্রক্রিয়াতেই এর নিষ্পত্তি হবে।
এ ঘটনায় নিকলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসনের প্রতি চরম চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

