পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

শেরপুর সরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ৬টি জায়গা পরিদর্শন

মোঃ সাজিদ হাসান শান্ত
মোঃ সাজিদ হাসান শান্ত , মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

শেরপুর জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রস্তাবিত শেরপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদের নেতৃত্বে পরিদর্শন দল শেরপুর সদরের বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত ছয়টি স্থান ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল হক, বিএমডিসি মনোনীত প্রতিনিধি অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য মোট ছয়টি স্থান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌহাটার খোয়ারপাড়, শেরপুরের ঢাকলহাটি, নৌহাটার অর্কিড এলাকা, শেরীব্রিজ-লছমনপুর পূর্বপাশ, শেরীব্রিজ-লছমনপুর পশ্চিমপাশ এবং মোবারকপুরের ইছলিবিল এলাকা।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, নৌহাটা খোয়ারপাড় এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। নৌহাটার অর্কিড এলাকার সম্ভাব্য মূল্যও একই। ঢাকলহাটি এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩০৪ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেরীব্রিজ-লছমনপুর পূর্বপাশ এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং পশ্চিমপাশ এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মোবারকপুরের ইছলিবিল এলাকার সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এর আগে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজের জন্য উপযুক্ত স্থান দেখতে শেরীব্রিজ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে শেরীব্রিজ থেকে কুসুমহাটি পর্যন্ত নদীতীরবর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত জমি, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের নিকটবর্তী অবস্থান, ভবিষ্যৎ রেল যোগাযোগের সম্ভাবনা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে শেরপুরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা শিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কমিটি তাদেরদ মতামত ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রস্তাবিত শেরপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।