আজ ১৭ জুন: প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ মুরসির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী
আজ ১৭ জুন, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ মুরসির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের এই দিনে আদালতে শুনানিকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সমর্থকদের কাছে দিনটি একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
১৯৫১ সালের ৮ আগস্ট মিশরের শারকিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ মুরসি। তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ১৯৮২ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রকৌশলে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেন। পরে দেশে ফিরে জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০০০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মিশরের পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হোসনি মুবারকের পতনের পর মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামল ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং তীব্র মতবিরোধে পরিপূর্ণ। সমর্থকদের মতে, তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। অন্যদিকে সমালোচকরা তার সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
২০১৩ সালের ৩ জুলাই দেশটির তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির নেতৃত্বে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হয়। দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০১৯ সালের ১৭ জুন আদালতে শুনানিকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর সাত বছর পরও ড. মুহাম্মদ মুরসি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, আরব বসন্ত, গণতন্ত্রের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক ইসলামী রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তার রাজনৈতিক জীবন ও উত্তরাধিকার নিয়ে আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
