মসূয়া ইউপি নির্বাচন: জামায়াতে অন্তরকোন্দল, বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী
নির্বাচন কমিশন এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা না করলেও চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ নির্বাচনকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ৭নং মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদে আগাম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২৭ হাজার ৪৭৮ জন ভোটারের এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবং নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি—বিএনপি ও জামায়াতকে ঘিরেই হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
তবে তফসিল ঘোষণার আগেই মসূয়া ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠে দুই দলের বিপরীতমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে জামায়াতে ইসলামীতে তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অন্যদিকে বিএনপিতে চলছে একাধিক নেতার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়।
জামায়াতে প্রকাশ্য বিভাজন ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী:
মসূয়া ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হাসান আল মামুনকে।
তবে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এর আগে দলটির পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. কামাল উদ্দিন সরকারকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে হাসান আল মামুনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হলে বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি ডা. কামালের সমর্থকেরা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ডা. কামাল এখনো স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জামায়াতের এই অন্তরকোন্দল এখন চা-স্টল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত কর্মী বলেন—
“জামায়াত শৃঙ্খলার কথা বললেও মসূয়াতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কামাল ডাক্তার দীর্ঘদিন মানুষের পাশে ছিলেন। হঠাৎ প্রার্থীর নাম বদল করায় সাধারণ সমর্থকেরা দ্বিধায় পড়েছেন।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের ভার্চ্যুয়াল যুদ্ধ:
হাসান আল মামুনের সমর্থকেরা দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে পোস্ট দিচ্ছেন। অন্যদিকে ডা. কামাল সরকারের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে হাসান আল মামুনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি জনমত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
বিএনপিতে একাধিক প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ:
জামায়াত যখন কোন্দলে জর্জরিত, তখন বিএনপি নিজেদের মাঠ গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। দলটির পক্ষ থেকে এখনো একক প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দলীয় সমর্থন বাগিয়ে নিতে বেশ কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রিয় নেতা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আলোচনায় আছেন—
- আবু বাক্কার সিদ্দিক — বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
- আব্দুল কুদ্দুস রতন — ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
- পল্লব তালুকদার — ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারলে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ ভোট বিভাজনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।
আওয়ামী লীগসহ অন্যান্যরা নিশ্চুপ:
দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও কোনো দৃশ্যমান প্রচারণা নেই। ফলে ভোটের মূল আকর্ষণ এখন বিএনপি বনাম জামায়াতে রূপ নিয়েছে।
মসূয়ার ২৭ হাজারের বেশি ভোটারের দৃষ্টি এখন এক প্রশ্নে—জামায়াত কি ভোটের আগে দলীয় বিরোধ মিটিয়ে একক প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে, নাকি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করবে বিএনপি?
