আশুলিয়ায় সরকারি পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
ঢাকার আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের একটি সরকারি খাস পুকুর পুনঃখনন, পাড় বাঁধাই ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ, সরকারি সম্পদের ক্ষতি এবং উত্তোলিত মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী সম্পন্ন না করে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীনে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় মেসার্স শরীয়তুল্লাহ ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সাগর তালুকদার। প্রকল্পের আওতায় সরকারি খাস পুকুর পুনঃখনন, চারপাশে পাড় বাঁধাই, ঘাটলা নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাস্তবায়নের কথা ছিল।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আশুলিয়া এলাকায় মোট ৯টি পুকুর পুনঃখনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রায় ৯৫ লাখ টাকার কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি। কাজ শুরুর নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৭ নভেম্বর ২০২৫ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৬ জুন ২০২৬।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, খামারপাড়া গ্রামের প্রায় ৮ লাখ টাকার প্রকল্পে টেন্ডার অনুযায়ী কাজ হয়নি। পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ অসম্পূর্ণ, চারপাশের পাড় যথাযথভাবে বাঁধাই করা হয়নি এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও দৃশ্যমান নয়।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পুকুর থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ মাটি বিক্রিকে কেন্দ্র করে। এলাকাবাসীর দাবি, পুকুরের পাড় নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ব্যবহারের কথা থাকলেও সেই মাটির বড় একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে উত্তোলিত মাটি বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রির অর্থ সরকারি ট্রেজারিতে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিধি মেনেই মাটি বিক্রি ও স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রথমে শ্রীপুরের এক ঠিকাদার খননকাজ শুরু করলেও শেষ না করেই চলে যান। পরে স্থানীয় মাসুদ পারভেজ প্রায় ৪ লাখ টাকায় মাটি কেনেন। পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে পুকুরটি প্রায় ১৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পুকুরের পাড় নির্মাণে উত্তোলিত মাটি ব্যবহার না করে পাশের সরকারি সলিং রাস্তার মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামের প্রধান সড়ক নিচু হয়ে যাওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তারেক আহমেদ হিলারি বলেন, পুকুর পুনঃখননের নামে সরকারি সড়কের মাটি কেটে নেওয়ায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘাটলাগুলো পুনর্নির্মাণ না করে উল্টো সরকারি সম্পদের ক্ষতি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা প্রকল্পের টেন্ডার নথি, উত্তোলিত মাটি বিক্রির অনুমোদন, সরকারি রাজস্ব জমার চালান, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজের পরিমাপ এবং বিল পরিশোধের নথি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেন্ডার অনুযায়ী অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মেসার্স শরীয়তুল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাগর তালুকদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
