পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
শিরোনাম
এসএসসি-দাখিলের ফল প্রকাশকে ঘিরে ফের সক্রিয় প্রতারক চক্র; ‘রেজাল্ট পরিবর্তনের’ নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ! ‘ফার্মের মুরগি’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র আরএমপি পুলিশ কমিশনারের সাথে সাংবাদিক নেতা মাখনের সৌজন্য সাক্ষাৎ শিরোপার পথে চার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মহারণ, কে হচ্ছে এবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন? শিবিরের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন সাদিক কায়েমসহ ৯ নেতা ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে নতুনভাবে সাজানো হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু ফুলবাড়ীতে ১,১৭০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ জলাবদ্ধতায় নৌকায় চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

এসএসসি-দাখিলের ফল প্রকাশকে ঘিরে ফের সক্রিয় প্রতারক চক্র; ‘রেজাল্ট পরিবর্তনের’ নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ!

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। ফল প্রকাশকে ঘিরে যখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কথিত ‘রেজাল্ট পরিবর্তন’ চক্র।

হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে পরিচালিত কয়েকটি গ্রুপে পরীক্ষার ফল পরিবর্তন, ফেলকে পাস করানো কিংবা নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গ্রুপগুলোতে প্রচারিত বার্তায় দাবি করা হচ্ছে, গণিতসহ কয়েকটি বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করলে ফলাফল পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ‘শেষ সময়’, ‘ফাইল জমা’, ‘কাজ নিশ্চিত করুন’—এ ধরনের ভাষাও ব্যবহার করা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, ফলাফল পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে আলাদা অর্থের পরিমাণ। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী—

– A+ পেতে দাবি করা হচ্ছে ৬ হাজার টাকা

– A গ্রেডের জন্য ৫ হাজার টাকা

– A- গ্রেডের জন্য ৪ হাজার টাকা

এ ধরনের পোস্টে দ্রুত যোগাযোগ না করলে পরে আর সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।

অর্থ দেওয়ার পর ব্লক করার অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, রেজাল্ট পরিবর্তনের আশ্বাসে নির্ধারিত টাকা পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে ব্লক করে দেন। পরে তাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। টাকা ফেরত চাইলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবছরই দেখা যায় একই কৌশল

সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ফল প্রকাশের মৌসুম এলেই এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে যায়। পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও মানসিক চাপকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র সহজেই অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা।

বোর্ডের কেউ কি জড়িত?

এ ধরনের প্রতারণা সামনে এলে সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—শিক্ষা বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কি এসবের সঙ্গে জড়িত?

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারকরা অনেক সময় বোর্ডের নাম ব্যবহার করে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সহজে প্রতারিত হন।

সতর্ক থাকার আহ্বান

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনের কোনো বৈধ সুযোগ নেই। তাই এ ধরনের প্রলোভনে বিশ্বাস না করে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ এ ধরনের দাবি করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সচেতন থাকুন। প্রতারণা থেকে নিজে বাঁচুন, অন্যকেও বাঁচান।