পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
শিরোনাম
আইফোন ও নগদ টাকা নেওয়ার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার কলরেকর্ড ফাঁস! দামের অস্থিরতায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত পাবনার পেঁয়াজচাষিরা শ্রীবরদীতে জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খনন করা খাল উদ্ধারে মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খানকে মনোনয়ন। পুলিশ দলীয় বাহিনী নয়, জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তরুণীর বাড়িতে আপত্তিকর অবস্থায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নেতা আটক রামেকে ৬২তম এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শপথগ্রহণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত মসূয়া ইউপি নির্বাচন: জামায়াতে অন্তরকোন্দল, বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

গ্রো আপ এগ্রোটেকের মডেল: ঋণ নয়, কৃষকের সঙ্গে অংশীদারিত্ব

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

বাংলাদেশের কৃষকদের অন্যতম বড় সমস্যা অর্থায়ন। অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক চাষাবাদের শুরুতেই মূলধনের সংকটে পড়েন। ফলে অনেক সময় উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয় কিংবা অনানুষ্ঠানিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই বাস্তবতায় গ্রো আপ এগ্রোটেক লিমিটেড কৃষি অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন মডেল সামনে এনেছে, যেখানে কৃষককে ঋণগ্রহীতা নয় বরং অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হচ্ছে অংশীদারিত্ব। অর্থাৎ কৃষকের সফলতা এবং প্রতিষ্ঠানের সফলতা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই ধারণার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রচলিত অর্থায়ন ব্যবস্থায় কৃষক সাধারণত ঋণ গ্রহণ করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকেন। আবহাওয়া, রোগবালাই কিংবা বাজার পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। গ্রো আপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মডেল কৃষকের ওপর সেই আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়েই তৈরি।

শুধু অর্থায়ন নয়, কৃষকের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও এই মডেলের অংশ। ফলে কৃষক উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা পেতে পারেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত সহায়তা কৃষকের উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রো আপ এগ্রোটেকের পেছনে রয়েছে উন্নয়ন সংস্থা রোসার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কৃষি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তাদের। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কৃষির জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি খাতে ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি কিংবা বাজার অস্থিরতা উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণে কৃষকের পাশে দীর্ঘমেয়াদে থাকা এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের মতে, শুধু অর্থ নয়, জ্ঞান ও প্রযুক্তিও কৃষকের উন্নয়নের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষিকে অংশীদারিত্বভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মডেলে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশেও সেই ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রো আপ নতুন চিন্তার পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষির উন্নয়ন শুধু কৃষকের আয় বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িত। কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল হয়। এই প্রেক্ষাপটে গ্রো আপ এগ্রোটেকের উদ্যোগ অনেকের কাছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।

ভবিষ্যতে এই মডেল কতটা কার্যকর প্রমাণিত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব ফলাফল ও ধারাবাহিকতার ওপর। তবে কৃষিকে ঘিরে নতুন ধরনের অংশীদারিত্বের ধারণা ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।