পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

কবিতা- আমি ভীষণ একা

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০০ পিএম

আমি ভীষণ, বড্ড একা।
বিষণ—ভীষণের মতো বড্ড একা।

অথচ আমার আশেপাশে ক্যাম্পাসে অসংখ্য মানুষ,
তবু যেনো আমি ভীষণ বড্ড একা।
তাদের খুব কাছে থেকেও ভীষণ দূরত্ব।
আমি—আমি ভীষণ বড্ড একা।

আমার কোথাও কেউ নেয়; আমি একা।
নিভৃত বৈরাগ্য সাধনার মতো—ভীষণ একা।
আমার কেউ নেয়। আমার শুধু’ আমি’আছি।
আমার ভীষণ দুঃখ হয়; কখনো খুব করে খারাপ লাগে—
এই খারাপ লাগা গুলো কারো কাছে শেয়ার করতে পারি না।
আমি ভীষণ, বড্ড একা।

আমি আমার অনুভূতিগুলো কোথাও প্রকাশ করতে পারি না।
আমার চারপাশে মানুষেরা আলোর ঝলকানির মতো মৃদু শব্দে হাসে,
তারা কথা বলে, তাদের কথা কানে আসে —
কানের ভিতরে যায় না।

তাদের গলার প্রতিটি শব্দে আমার নাম নেই।
আমি ভীষণ, বড্ড একা।
আমি ভীষণ বড্ড একা, এমন একা যে শোনা যায়
নিজের নিঃশ্বাস।

তাদের হাত আমার দিকে পৌঁছায় না; স্পর্শ শূন্যে পড়ে।
তাদের মাঝে থেকেও মনে হয় দূরে,
সবার আছে আলাদা এক স্থান।
আমি ভাবি—কেনো এই দূরত্ব ? এত কড়া, এত অনবরত?
আমি ভীষণ বড্ড একা,
আমার কেউ নেয়; আমার শুধুই’ আমি’ আছে।

আমি আমার জীবনের কোন কিছু কারও কাছে বলতে পারি না।
প্রকাশ করতে পারি না—কাকে বলবো? কী বলবো? কেনো বলবো? কে শুনবে ?
কেনো শুনবে? আমি ভীষণ, বড্ড একা।
নিজের মনের ভিতরে কথা চলে, চোখের অশ্রু পর্যন্ত আসে ।
চোখের অশ্রু থামে গলায়; গলা চিপটে যায় নিঃশব্দে।


রাতে আমার চোখে ঘুম নয়—চোখগুলো কেবল
অন্ধকারে শুয়ে থেকে অপেক্ষা করে, যেনো কেউ এসে কিছু বলবে।
ভোরের আলোয় বিনিদ্র রজনী ক্লান্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ে দেহ।
দিনগুলো আসে একরঙা, শব্দহীন, ছায়াহীন; ধূসর মরুভূমির মতো,
আমি সেখানে একটি ফাঁকা কাঁধ
কখনো মনে হয় জীবন্ত এক লাশ।
আমি ভাবি—নিজেরই ছায়া আমার সঙ্গী, তবু সে চেনা নয়।
কখনো নিজেকে খুঁজেও পাই না; নাম ধরে ডেকে বলি—
আমি কি আছো? কোনো উত্তর নেই, শুধু নিজেরই প্রতিধ্বনি।


আমি ভীষণ বড্ড একা, তবে এই একাকীত্বে একটা অদ্ভুত গৌরব আছে—
যেখানে আমার দুঃখ নিজেই আমার গানের সুর হয়ে ওঠে।
তবু কখনো খুব কষ্ট লাগে—কখনো কখনো এমন লাগে,
যেনো সমগ্র আকাশ মাথার উপর ভেঙে পড়ে।

আমি চেয়ে ছিলাম গাছের পাতার মতো কারো কাছে ঝরে পরতে,

আমার কেঁদে ওঠা শুনতে,
কিন্তু শব্দের আগে লজ্জা এসে দাঁড়ায়;
আমি থেমে যাই, ফিরে তাকাই নীরবে।
এই একাকীত্ব আমার আত্মার; আমি তাকে চিনি,

কখনো উষ্ণ করে আঁকড়ে ধরে, কখনো তিরস্কার করে ভেঙে ফেলতে চাই।

শব্দগুলোর চিৎকার আমার বোঝাতে ব্যর্থ —
তাও আমি লিখি, নীরবে কাগজে ঢেলে দিই
মনের যত দুঃখ ,যন্ত্রনা, একাকীত্ব ।
আমার লেখা পড়ে কেউ কি আমার দুঃখ গুলো বুঝবে?
কেউ কি আমার মাঝে তার ভালোবাসা খুঁজবে?
আমি ভীষণ, বড্ড একা।

আমি জানি আমার লেখা কেউ পড়ে না,
তবুও আমি লিখি—কারণ লেখা একমাত্র সেই দরজা যেখানে আমি নিঃশব্দে মনের কথা বলি।
আমি ভীষণ বড্ড একা, তবে এই একাকীত্বই আমাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে শেখায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আমি একা বসে থাকি।
নিঝুম নিশুতিতে পার্কের মোড় যখন নীরব হয়।
যখন কারো পদচিহ্ন ক্যাম্পাসে পরে না,
বাতাস কাঁপে—আমি লিখি আমার নামের পেছনে ‘আমি’।

আমার মনে শুধুই ‘আমি’।

হয়তো কেউ কেউ একদিন আমার লেখা পড়বে,

হয়তো কেউ সাড়া দেবে, আর হয়তো কেউই সাড়া দেবে না—তবু আমি আছি।
আমি ভীষণ, বড্ড একা — এবং এই একাকীত্বই আমার সঙ্গে সদা আছে।