অনিয়ম ও বহুবিবাহের অভিযোগে সাবেক ওসি মাহবুব, নতুন ঘটনায় চাঞ্চল্য
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার একটি ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীর সঙ্গে অবস্থানকালে নিজেকে তাঁর ‘৬ নম্বর স্ত্রী’ দাবি করা এক নারীর বাধার মুখে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্ল্যাটের ভেতরে-বাইরে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট এক নারীর দাবি, মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে নিজেকে তাঁর ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারী সেখানে গিয়ে দরজায় আঘাত করে প্রতিবাদ করেন। এ সময় ফ্ল্যাটের বাইরে ওই নারীর হট্টগোল এবং ভেতরে থাকা অপর নারীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, তথ্য গোপন, প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। তাঁর চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীর তৎকালীন রেঞ্জ ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়। ওই অভিযোগে দাবি করা হয়, পূর্বের একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করে তাঁকে বিয়ে করা হয়। একই সঙ্গে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে চন্দ্রিমা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। তাঁর কার্যালয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এরপর তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সাম্প্রতিক ঘটনাসহ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
