সমবায় সমিতির টাকা আনতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্যবসায়ী সুজন মিয়া: ৪ দিনেও মেলেনি সন্ধান
জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিজ বাড়ি মাদারগঞ্জ থেকে টাকা আনতে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সুজন মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তার মা মোছা. মাজেদা বেগম।
নিখোঁজ সুজন মিয়া উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের চরপাকেরদহ ফকিরপাড়া এলাকার মোজা প্রামাণিকের ছেলে। তিনি বালিজুড়ী বাজারে ‘সুজন লন্ড্রি অ্যান্ড চা স্টল’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ থেকে সুজনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে টাকা নেওয়ার জন্য সেখানে যেতে বলা হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে টাকা আনতে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন তিনি।
সুজনের বোন সুরুফা বেগম ও স্ত্রী সাবানা আক্তারের ভাষ্য, ময়মনসিংহে যাওয়ার পর সুজন তাদের ফোন করে জানান, তিনি ১ লাখ ৬ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এরপর সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন সুজন।
সুজনের বোন সুরুফা বেগমের দাবি, শতদল সমবায় সমিতির পরিচালক বাছেদের ফোন পেয়েই তার ভাই টাকা আনতে ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শতদল সমবায় সমিতির পরিচালক বাছেদ। তিনি বলেন, “সুজনের সঙ্গে আমার কখনো যোগাযোগ হয়নি। আমি তাকে চিনি না। তার সঙ্গে কোনো টাকার লেনদেন হয়নি এবং কোনো কথাও হয়নি।”
এ ঘটনায় সুজনের মা মোছা. মাজেদা বেগম ২৫ সেপ্টেম্বর মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
সুজনের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি বর্তমানে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুজনের সন্ধান পেতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্নেহাশিষ রায় বলেন, “সুজন নামে একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।”
