সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় ছয় একর জমির উপর গড়ে উঠছে এক অনন্য প্রকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র। সবুজ প্রকৃতি, অর্গানিক চাষাবাদ ও ব্যতিক্রমী পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সংমিশ্রণে তৈরি হচ্ছে এ প্রকল্পটি। এর উদ্যোক্তা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন।
এই প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে –মিয়াওয়াকি কনসেপ্টে তৈরি দেশের প্রথম বন। প্রায় ৪,৪৪০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ঘনবন, যা জাপানি পরিবেশবিদ অকিরা মিয়াওয়াকি উদ্ভাবিত বিশেষ পদ্ধতিতে নির্মিত। এই কৌশলে স্বল্প জায়গায় স্থানীয় প্রজাতির নানা গাছ লাগিয়ে দ্রুতবর্ধনশীল ও জৈব বৈচিত্র্যময় একটি ক্ষুদ্র বন তৈরি করা হয়।
প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক অসাধারণ গন্তব্য। এখানে থাকবে শান্ত পরিবেশে হাঁটার পথ, গাছ-গাছালিতে ঘেরা বসার জায়গা, লতা-পাতায় ঘেরা প্রাকৃতিক আচ্ছাদন এবং নিঃশব্দ পরিবেশে প্রকৃতি অনুভবের সুযোগ। বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকছে অর্গানিক ফলফলাদি ও শাক-সবজি। সেখান থেকে দর্শনার্থীরা চাইলে নিজেদের জন্য ফলফলাদি কিংবা শাক-সবজি সংগ্রহ করতে পারবেন।
উদ্যোক্তা আমজাদ হোসেন জানান, এই প্রকল্পটিতে ২০-২৫ জনের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করবো এবং একই সঙ্গে ৭০-৮০ জনের দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী পরিবেশও নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে ইয়োগা ও মেডিটেশন সেশন, বার্ড ওয়াচিং এবং প্রকৃতি শিক্ষা কার্যক্রম এর আয়োজন।
প্রকল্পের উদ্যোক্তা আমজাদ হোসেন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি প্রাকৃতিক প্রশান্তির জায়গা তৈরি করা, যেখানে মানুষ প্রযুক্তির কোলাহল থেকে কিছু সময় প্রকৃতির সঙ্গে কাটাতে পারবেন। এখানে কেউ আসবেন বিশ্রাম নিতে, কেউ শিক্ষা নিতে, কেউবা শুধুই সবুজ দেখতে।”
তিনি আশাবাদী, আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে এই প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হতে পারে এক অনন্য মডেল।

