কুড়িগ্রামে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে ধান শুকানোর অভিযোগ ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে!
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খামার হলোখানা মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে ধান শুকানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে সেই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার ১৬ মে বিদ্যালয়ে যথারীতি পাঠদান করতে আসেন উক্ত বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীরা। এসময় তারা শ্রেণীকক্ষে এসে দেখতে পায় ধান শ্রেণীকক্ষের ভিতরে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা কিছু না বুঝে ক্লাস করতে বসেন শ্রেণীকক্ষে। কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামছুল হক এসে তাদের কে শ্রেণীকক্ষ থেকে বাহির করে দেয়। পরে স্কুলের শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হয়ে এসে স্থানীয়দের জানান বিষয়টি।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বলেন, শ্রেণীকক্ষে তারা এসে ধান দেখতে পায়। তারা কোন কিছু না বোঝেই বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের ভিতরে প্রবেশ করেন। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এসে তাদের কে বাহির করে দেয়। তারা কোন কিছু না বুঝে বাহিরে চলে আসে।
স্থানীয় সবুজ মিয়া, শামীম আহমেদসহ আরও অনেকে দাবি করে বলেন, সাবেক সভাপতি শামছুল হক প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করতে পারে না। তিনি বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে ধান মাড়াই, ধান-খড় শুকানো থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করে থাকেন। কিন্তু সরকারি বিদ্যালয়ের মাঠ বা শ্রেণীকক্ষ ব্যবহার করা কোন ব্যক্তির অনুমতি আছে নাকি সরকারি নীতিমালায় এমন প্রশ্ন করেন স্থানীয়রা।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, সাবেক সভাপতি প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের যাবতীয় সুযোগ – সুবিধা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে উন্নতম হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি তিনি তার ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে নিজের আয়ত্তে নেন।
এ বিষয় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রসুল বলেন, সাবেক সভাপতি বৃহস্পতিবার মোবাইল করে জানান ধান রাখার বিষয়টি। এবং শনিবারে ক্লাস শুরুর আগেই তা সরিয়ে নেবে বলে কথা হলেও বৃষ্টির কারণে তা সরানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ থেকে শিক্ষার্থী বাহির করে দেওয়া বিষয় জানা নেই বলেন তিনি।
ঘটনার বিষয় সাবেক সভাপতি শামছুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের জমিদাতা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই ধান রেখেছি। এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে কোন ধরনের অনিয়ম নেই বলে জানান তিনি।
