কোরবানি ঈদ সন্নিকটে ব্যস্ততা নেই কামারপল্লিতে
হাতুড়ির বারির টুংটাং শব্দের সাথে আগুনে পুড়ে লাল হয়ে ওঠা লোহা ধীরে ধীরে নিচ্ছে নতুন আকার। এই ছন্দময় শব্দই জানান দিচ্ছে কোরবানি ঈদ সামনে। কামার পল্লীর লোকজনের ব্যস্ততা জানান দেয় কুরবানী ঈদের আগমনী বার্তা।
কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে কামারপাড়ার ব্যস্ততা।
ঈদকে সামনে রেখে সকাল থেকে রাত অবধি চলে কোপা, ছুরি বানানোর কাজ। সারা বছর ধরে প্রায় ঢিলেঢালাভাবে চলা কামারপল্লীগুলো ঈদ ঘনিয়ে এলেই জীবন্ত হয়ে ওঠে। তবে এবারের সেই চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
আজ শনিবার (১৬মে) সরেজমিনে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে ঘুরে দেখা যায় তাদের হাতে তেমন কোন কাজ নেই বললেই চলে। নেই টুংটাং শব্দ। কামারপল্লীগুলো যেন এবার হয়ে আছে নিরব। সারাদিনেও যেন দেখা মিলছে না ক্রেতাদের। মাংস কাটার গতবারের সরঞ্জাম গুলো শুধু মেরামত করতে করেই সময় পার করছে কামারপল্লীর শ্রমজীবিরা। কর্মকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কাজ নেই তবুও কয়লা, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।
কামারশিল্পী আজবাহার আলী বলেন, ‘আমরা খুবই অবহেলিত। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। কোরবানী ঈদ আসলেই কিছু টাকা আয় করতে পারি। এবার সে লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
কামাররা বলেন, প্রাচীন এই কামারশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তা না হলে এ শিল্পের সাথে জড়িতরা ভিন্ন পেশায় যেতে বাধ্য হবে।
