পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
শিরোনাম
• রাজশাহীতে বাড়ছে রিকশা, যানজট কমাতে ৮ দফা প্রস্তাব • বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ • সোশ্যাল মিডিয়ার বিচারালয়: সুবিচার নাকি উন্মত্ত জনতার উল্লাস? • চাঁদা না পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীকে বোমা দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা, সাজানো ঘটনায় জালালের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ঝাড়ু মিছিল • নবীনগরে যাত্রীবেশে সাড়ে ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ছিনতাই, গ্রেপ্তার ১। • টঙ্গীতে ফ্ল্যাট ক্রেতার অভিনব জালিয়াতি: লক্ষ্য এবার পুরো ভবন দখল • আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন তা’মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সায়েম • আওয়ামী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

দামের অস্থিরতায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত পাবনার পেঁয়াজচাষিরা

আবু ছাহিম প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারে দামের লাগামহীন ওঠানামা এবং আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাবে চরম সংকটে পড়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পেঁয়াজচাষিরা। ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ার পাশাপাশি সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি উপজেলার করমজা চতুরহাট ঘুরে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে দেশি জাতের পেঁয়াজের দাম সুপার কিংসসহ অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রতি মণ (৪০ কেজি) ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি। কৃষকদের মতে, দেশি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং পচন বা ওজন কমার হার তুলনামূলক কম হওয়ায় এর বাজারদর বেশি।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এক বিঘা জমিতে দেশি জাতের পেঁয়াজের গড় ফলন প্রায় ৫০ মণ হলেও সুপার কিংস জাতের ফলন ৮০ থেকে ৯০ মণ পর্যন্ত হয়। তবে বেশি ফলন হলেও সংরক্ষণকালে পচন ও ঘাটতির কারণে সুপার কিংস থেকে প্রত্যাশিত লাভ মিলছে না।

একজন পেঁয়াজচাষি বলেন, “বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ভালো ফলন পেলেও বাজারে দাম কম থাকলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় মূলধনও উঠে আসে না।”

কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমে দাম কম থাকায় ভবিষ্যতে ভালো দামের আশায় তারা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। কিন্তু আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাবে কয়েক মাসের মধ্যেই বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাদের দাবি, সংরক্ষণের অভাবে প্রায় ৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে বাজারে প্রতিনিয়ত দামের ওঠানামার কারণে কখন পেঁয়াজ বিক্রি করলে লাভ হবে, সেটিও বুঝে উঠতে পারছেন না চাষিরা। একদিন দাম বাড়লেও পরদিন কমে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

এ অবস্থায় কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজের ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মধ্যস্বত্বভোগী ও সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কৃষকদের আশা, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত, সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা ও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা গেলে লোকসান কমবে এবং পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে।