চাঁদা না পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীকে বোমা দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা, সাজানো ঘটনায় জালালের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ঝাড়ু মিছিল
চাঁদার টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে বোমা (ককটেল) দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ধরা পরার পর জালালের বিচার চেয়ে ঝাড়ু মিছিল করেছে এলাকাবাসী। তারা দ্রুত জালালকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সেইসঙ্গে যাতে আর কেউ জালালের দ্বারা হয়রানীর শিকার না হন সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ছাত্রলীগকর্মী নূরুনবী হৃদয়ের কাছে ১৫ লাখ চাঁদা দাবি করেছিল জালাল। সে মামলার ঝামেলা থেকে বাঁচতে ২ লাখ টাকা দেয় জালালকে। বাকি ১৩ লাখ টাকা না দেওয়ায় হুমকি দিয়ে আসছিল। শুক্রবার রাতে শাহজালাল তার সহযোগী অলিসহ নিজের প্রাইভেটকার নিয়ে নূরনবীর বাড়ির সামনে যায়। সে যাবার কিছুক্ষণ পরই তার ফোন পেয়ে এলাকায় পুলিশ হাজির হয়। পুলিশ গিয়ে রাস্তার পাশে ককটেল দেখতে পায়। শনিবার দুপুরে পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
এলাকাবাসী জানায়, হৃদয় গত কয়েকদিন যাবত এলাকা ছাড়া। সে ককটেল রাখলে তো আর রাস্তার পাশে রাখতো না। নিশ্চয় সেগুলো লুকিয়ে রাখা হতো। মূলত হৃদয়ের বাড়িতে ককটেল রেখে পুলিশ ডেকে সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করেছে জালাল। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। গ্রামের লোকজন জানান, জালাল এলাকার জেলে, ব্যবসায়ী, দোকানদার, ভ্যানচালকসহ সবার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। দলে কোনো পদ না থাকলেও ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় চাঁদবাজী, মাদক, দখল ও মামলাবাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করছে জালাল।
এই বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয় দল গিয়ে এসব ধ্বংস করেছে। জালালের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ঝাড়ু মিছিল ও ঘটনা সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়গুলো অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগেও কমিটিতে জায়গা না পেয়ে স্থানীয় গুটিয়া শাহী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তালা মারার হুমকি দিয়েছিলেন গুটিয়া গ্রামের হকসাবের ছেলে জালাল। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ায় সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম সীমান্তের ওপর হামলা করেছিল জালাল ও তার লোকজন। সেইসঙ্গে এলাকায় শতাধিক সন্ত্রাসীকে নিয়ে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্ট করে সে। ওই সময় বেশকিছু গণমাধ্যমে জালালের অপকর্ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারপরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
এছাড়া গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ না পাওয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে জালালের বিরুদ্ধে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. খায়রুন্নেছা ওই সময় বলেন, স্কুলের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ পেতে যে যে যোগ্যতা প্রয়োজন হয় তা জালালের ছিলো না। তারপরও ৫ আগস্টের পর তিনি জোরপূর্বকভাবে সভাপতি পদ নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি প্রতিবাদ জানালে ক্ষেপে গিয়ে জালাল তাকে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অপবাদ দেয়।
