পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

ঈদুল আযহা: ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবতার শিক্ষা

ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব ও মিলনের বার্তা। তবে মুসলিম উম্মাহর দুটি ঈদের মধ্যে ঈদুল আযহার আবেদন কিছুটা ভিন্ন। এটি কেবল নতুন পোশাক, কোরবানি কিংবা উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর গভীরে রয়েছে আত্মত্যাগ, আনুগত্য, তাকওয়া এবং মানবতার এক অনন্য শিক্ষা।

হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনের সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের ঘটনাকে স্মরণ করেই মুসলিম বিশ্ব প্রতি বছর পালন করে পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকেও কোরবানি করার যে মানসিকতা- সেটিই এই ঈদের মূল শিক্ষা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না পশুর গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”

আজকের সমাজে আমরা বাহ্যিক আয়োজনকে যতটা গুরুত্ব দিচ্ছি, ততটা গুরুত্ব দিচ্ছি না আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধকে। অথচ ঈদুল আযহা আমাদের শেখায়- প্রকৃত ত্যাগ হচ্ছে নিজের অহংকার, লোভ, হিংসা, অন্যায় ও স্বার্থপরতাকে কোরবানি করা। সমাজে বিভেদ, হানাহানি, দুর্নীতি ও বৈষম্যের যে চিত্র আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি, তা থেকে উত্তরণের জন্যও ঈদুল আযহার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ নানা বিভক্তি, মতবিরোধ ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ ঈদ হওয়ার কথা ছিল ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, শহর-গ্রাম- সবাই যেন এক কাতারে এসে দাঁড়ায়, একে অপরের খোঁজখবর নেয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়- এটাই হওয়া উচিত ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য।

বিশেষ করে কোরবানির মাংস বণ্টনের বিষয়টি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সামাজিক সাম্য ও মানবিক দায়িত্ববোধের বাস্তব অনুশীলন। সমাজের দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মানুষ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে আমাদের আরও আন্তরিক হতে হবে। কারণ ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি মানবকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়বিচারেরও ধর্ম।

দুঃখজনকভাবে বর্তমানে ঈদের উৎসবও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কত বড় পশু কিনল, কে কত ব্যয় করল- এসব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় প্রদর্শনী ঈদের প্রকৃত চেতনাকে অনেকাংশে ম্লান করে দেয়। অথচ ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় বিনয়, সংযম ও আন্তরিকতার।

ঈদুল আযহা আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মানুষ কেবল ভোগের জন্য সৃষ্টি হয়নি; বরং ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও মানবসেবার মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র- সর্বক্ষেত্রে যদি আমরা এই শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করতে পারি, তবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সহানুভূতিশীল ও মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব।

আসুন, এবারের ঈদুল আযহায় আমরা শুধু পশু কোরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের ভেতরের অহংকার, ঘৃণা, হিংসা ও অন্যায় প্রবণতাকেও কোরবানি করার অঙ্গীকার করি। ত্যাগের এই মহান শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রজীবন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ুক- এটাই হোক এবারের ঈদের প্রত্যাশা।

✍️লেখক: মাসুদ রানা
শিক্ষার্থী, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী।