পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
শিরোনাম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৭তম নজরুল জয়ন্তী পালিত: দুই গুণী ব্যক্তিকে পদক প্রদান। রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন আরিফুর রহমান শিমুল শিকদার কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নালিয়ার দোলায় চেয়ে স্থানীয়দের মানববন্ধন। রোটার‌্যাক্ট ও আবাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ দুই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত তরুণ নির্মাতা রনি তানভীরের ‘হ্যালো মা’। রাজশাহীতে খাদ্য উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই এর জরিমানা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগর শাখার কলেজ পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচির মূল্যায়ন পরীক্ষা সম্পন্ন ২০০ বছরের ঐতিহ্যে ভাসমান পেয়ারা বাগান
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

ঈদুল আযহা: ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবতার শিক্ষা

ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব ও মিলনের বার্তা। তবে মুসলিম উম্মাহর দুটি ঈদের মধ্যে ঈদুল আযহার আবেদন কিছুটা ভিন্ন। এটি কেবল নতুন পোশাক, কোরবানি কিংবা উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর গভীরে রয়েছে আত্মত্যাগ, আনুগত্য, তাকওয়া এবং মানবতার এক অনন্য শিক্ষা।

হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনের সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের ঘটনাকে স্মরণ করেই মুসলিম বিশ্ব প্রতি বছর পালন করে পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকেও কোরবানি করার যে মানসিকতা- সেটিই এই ঈদের মূল শিক্ষা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না পশুর গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”

আজকের সমাজে আমরা বাহ্যিক আয়োজনকে যতটা গুরুত্ব দিচ্ছি, ততটা গুরুত্ব দিচ্ছি না আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধকে। অথচ ঈদুল আযহা আমাদের শেখায়- প্রকৃত ত্যাগ হচ্ছে নিজের অহংকার, লোভ, হিংসা, অন্যায় ও স্বার্থপরতাকে কোরবানি করা। সমাজে বিভেদ, হানাহানি, দুর্নীতি ও বৈষম্যের যে চিত্র আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি, তা থেকে উত্তরণের জন্যও ঈদুল আযহার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ নানা বিভক্তি, মতবিরোধ ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ ঈদ হওয়ার কথা ছিল ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, শহর-গ্রাম- সবাই যেন এক কাতারে এসে দাঁড়ায়, একে অপরের খোঁজখবর নেয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়- এটাই হওয়া উচিত ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য।

বিশেষ করে কোরবানির মাংস বণ্টনের বিষয়টি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সামাজিক সাম্য ও মানবিক দায়িত্ববোধের বাস্তব অনুশীলন। সমাজের দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মানুষ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে আমাদের আরও আন্তরিক হতে হবে। কারণ ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি মানবকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়বিচারেরও ধর্ম।

দুঃখজনকভাবে বর্তমানে ঈদের উৎসবও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কত বড় পশু কিনল, কে কত ব্যয় করল- এসব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় প্রদর্শনী ঈদের প্রকৃত চেতনাকে অনেকাংশে ম্লান করে দেয়। অথচ ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় বিনয়, সংযম ও আন্তরিকতার।

ঈদুল আযহা আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মানুষ কেবল ভোগের জন্য সৃষ্টি হয়নি; বরং ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও মানবসেবার মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র- সর্বক্ষেত্রে যদি আমরা এই শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করতে পারি, তবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সহানুভূতিশীল ও মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব।

আসুন, এবারের ঈদুল আযহায় আমরা শুধু পশু কোরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের ভেতরের অহংকার, ঘৃণা, হিংসা ও অন্যায় প্রবণতাকেও কোরবানি করার অঙ্গীকার করি। ত্যাগের এই মহান শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রজীবন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ুক- এটাই হোক এবারের ঈদের প্রত্যাশা।

✍️লেখক: মাসুদ রানা
শিক্ষার্থী, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী।