বানিয়াচংয়ে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে দেশব্যাপী সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার (২৪ মে, ২০২৬ খ্রিঃ ) বিকাল ৪টায় বানিয়াচং শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বানিয়াচংয়ের সচেতন সমাজ-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং এলাকার সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে এসব অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন জনাব আলী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান নাফিজ। তিনি বলেন, “ধর্ষণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর বিচার ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন অনিক, বিএফ শাহিন কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল মুহিত আকিব, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিসান রহমান এবং বাহুবল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আলীসহ আরও অনেকে। এ সময় সাংবাদিক আবু হানিফ বিন সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, অপরাধের ধরন যাই হোক না কেন, তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিসান রহমান তার বক্তব্যে অভিযোগ দায়েরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরবর্তী ১৪৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা বন্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবিও জানান তিনি।
এছাড়া কেবল আইন প্রণয়ন নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা জোরদার এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
