পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লক্ষ টাকার টিকিট বাণিজ্য

মোঃ সাজিদ হাসান শান্ত
মোঃ সাজিদ হাসান শান্ত , মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। টিকিটের দাম তিন টাকা হলেও প্রতি রোগী থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫ টাকা। এভাবে রোগীর পকেট কেটে বছরে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য হলেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সংশোধিত পরিপত্রের তথ্য মতে, সরকারি ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা ফি তিন টাকা। ভর্তি ফি পাঁচ টাকা। প্রতিদিন রোগীর কাছে টিকিট বিক্রি বাবদ আদায় করা টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ রোকনুজ্জামানের কাছে থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৮৭৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮৭৬০, মার্চে ৯০১৪, এপ্রিলে ১১৭৩৫, মে মাসে ৯৩৬০ জন এবং জুন মাসে ১৩১১৯ রোগী বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য টিকিট সংগ্রহ করেছেন। এই ছয় মাসে টিকিট বিক্রি বাবাদ অতিরিক্ত ১লক্ষ ২১ হাজার ৪৯২ টাকা আদায় হয়েছে।

রোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে এ টাকা হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার মোঃ বাবুল নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী।

জরুরি বিভাগ হতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬৬৬, ফেব্রুয়ারিতে ৬৬৬, মার্চে ৭৪৮, এপ্রিলে ৮২৯, মে মাসে ৬২০ এবং জুন মাসে ৮৭৫ রোগী ভর্তি টিকিট সংগ্রহ করেছেন। এই ছয় মাসে ভর্তি রোগীর থেকে অতিরিক্ত ২২ হাজার ২০ টাকা আদায় হয়েছে।

অভিযোগ পেয়ে সম্প্রতি সরেজমিনে বহির্বিভাগে কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় কার্ডিওগ্রাফার বাবুল টিকিট বিক্রি করছেন। রোগীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান টিকিটের দাম ৩ টাকা। কাউন্টার থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা এবং ভর্তিকৃত কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানতে পারলাম ভর্তিবাবদ সবার কাছেই ৫ টাকা না নিয়ে নেওয়া হচ্ছে ১০টাকা।

এ সময় হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগী হেলাল বলছেন, এখানের টয়লেটের অবস্থা একেবারে বাজে, ভিতরে গেলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যায়।

বহিবির্ভাগের চিকিৎসা নিতে আসা সেবাগ্রহিতা বেগম বলেন,  দীর্ঘ ১বছর থেকে আমি এখানে ডাক্তার দেখাচ্ছি এবং প্রতিদিনই আমার কাছে টিকিটের দাম পাঁচ টাকা করে নিছে। আমরা জানতাম না যে টিকিট ফি ৩টাকা।

সত্যতা জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা বাবুল বলেন, দুই টাকা খুচরা থাকে না, তাই ৫ টাকা করে রাখি। তবে অতিরিক্ত টাকা শেষে টিকিট বাড়তি দেখিয়ে টাকা সমান করে দেই।

আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: অমিয় জ্যোতি সাইফুল্লাহ কাছে যখন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই, তখন তিনি বলেন অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নেই এবং অল্প কিছু ক্ষণের মধ্যেই তিনি সেবা নিতে আসা রোগীরা যেখানে টিকিট নিচ্ছে সেখানে এসে বলেন টিকিট মূল্য ৩ টাকা কেউ ৫ টাকা দিবেন না। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পরই আবারও ৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে টিকিট।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবু সাদাত মোহাম্মদ মফিদুল ইসলাম বলেন, বহির্বিভাগের টিকিট প্রতিটি তিন টাকা এবং জরুরি বিভাগে ভর্তি বাবদ পাঁচ টাকা নেওয়ার কথা।

অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেয়ে কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।