পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

প্রায় ২০ কোটি টাকার স্থাপনার হদিস নেই, রামেবি ক্যাম্পাসে লুটপাটের অভিযোগ

আবু কাওসার মাখন
আবু কাওসার মাখন , বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের স্থাপনা, সীমানা প্রাচীর, নলকূপ ও অন্যান্য অবকাঠামোর বড় অংশের কোনো হদিস মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে নিলাম বাবদ জমা পড়েছে মাত্র ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ যথাযথ নিলাম ছাড়াই অপসারণ বা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৩ সালে নগরের সিলিন্দা মৌজায় ৬৭ দশমিক ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে রামেবি। জমির পাশাপাশি সেখানে থাকা পাকা, আধাপাকা ও টিনশেড ভবন, সীমানা প্রাচীর, নলকূপ, গভীর নলকূপ, সাবমারসিবল পাম্প এবং গাছপালার জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পরিশোধ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অধিগ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বহিরাগত একটি চক্র এসব স্থাপনা ও অবকাঠামো অপসারণে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভবন ভাঙা ও স্থাপনা সরানোর কাজ আরও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।

এর আগে একই ক্যাম্পাসের প্রায় ২৫ হাজার গাছের মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৬৪২টি গাছ নিলামে বিক্রির তথ্য প্রকাশিত হয়। প্রায় ১৪ হাজার কলাগাছ বাদ দিলেও অবশিষ্ট প্রায় ৮ হাজার গাছের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গাছের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জানতে উপাচার্যের কাছে তথ্য চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এবার স্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নথি অনুযায়ী, অধিগ্রহণকৃত এলাকায় দুটি তিনতলা, ছয়টি দোতলা, তিনটি একতলা এবং একটি নির্মাণাধীন দোতলা ভবনসহ মোট ১২টি পাকা ভবন ছিল। এছাড়া সাতটি আধাপাকা ও টিনশেড ঘর, একটি ইটের নির্মিত মিষ্টির ঘর, ছাদের ওপর তিনটি শেড, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৬টি সীমানা প্রাচীর, একাধিক নলকূপ, গভীর নলকূপ এবং ১০টি সাবমারসিবল পাম্প ছিল। বর্তমানে এসবের অধিকাংশের কোনো অস্তিত্ব নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৯ জুলাই একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই নিলামে একটি দোকানঘর, দুটি তিনতলা ভবন, দুটি একতলা ভবন এবং একটি দোতলা রেস্তোরাঁ ভবন বিক্রি করা হয়। পরে এনআরবিসি ব্যাংকের ১০টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরে ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা জমা পড়ে। তবে বাকি স্থাপনাগুলোর কোনো নিলাম বা বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে নামমাত্র মূল্যে কিছু স্থাপনা নিলামে দেওয়া হলেও অধিকাংশ স্থাপনা কোনো নিলাম ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় একটি দোতলা ভবন ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা নেই। সেখানে ভূমি ভরাটের কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, কাজ শুরুর সময় সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর ছিল না। তাদের ভাষ্য, বালু ভরাটের আগেই সব স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নিলাম কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে দ্রুতগতিতে ভবন ভাঙা ও সীমানা প্রাচীরের ইট অপসারণ করা হয়। সে সময় শ্রমিকরা জানিয়েছিলেন, তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই কাজ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক উপাচার্য এবং ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি ভূমি উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধিগ্রহণকৃত এলাকায় স্থাপনা অপসারণ ও লুটপাটের ঘটনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক নজিবুর রহমান বলেন, “আমি আট মাস আগে যোগদান করেছি। আগের বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার জানা নেই। অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে মূল্য দেওয়া হয়, বাস্তবে নিলামে সেই পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় না। সে কারণেই প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারিত স্থাপনা ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হতে পারে। এটি আমার ব্যক্তিগত ধারণা।