পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
শিরোনাম
• চাঁদা না পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীকে বোমা দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা, সাজানো ঘটনায় জালালের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ঝাড়ু মিছিল • নবীনগরে যাত্রীবেশে সাড়ে ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ছিনতাই, গ্রেপ্তার ১। • টঙ্গীতে ফ্ল্যাট ক্রেতার অভিনব জালিয়াতি: লক্ষ্য এবার পুরো ভবন দখল • আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন তা’মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সায়েম • আওয়ামী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ • লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট এর পথশিশুদের মাঝে খাদ্য ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ • বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলার অভিযোগে সাবেক এমপি ও জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি! • দেহেরগতি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য হয়ে জনগণের সেবা করতে চান শাহীন মাঝি
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

উলিপুরে গোসলের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ।

মোঃ কাজল ইসলাম
মোঃ কাজল ইসলাম , জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক নারীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলার ভেলুর খামার দুর্গাপুর এলাকায় ২৩ বছর বয়সী এক গৃহবধূর গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণ করেন ওই গ্রামের বাসিন্দা মো: আনারুল ইসলাম (৩০) নামে এক ব্যক্তি। গোপনে ভিডিও ধারণ করে শারিরীক সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় হুমকিও দেন অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম। পরে ভুক্তভোগী নারী আদালতে এ বিষয় নিয়ে লেখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম গোপনে গোসলখানায় ক্যামেরা দিয়ে ভুক্তভোগী নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও আভিযোগ করেন, আনারুল ইসলাম ধারণ করা ভিডিও ডিলিট করে দিবেন এবং তার বিনিময়ে ওই নারীকে আরও একটি ভিডিও দিতে হবে। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তের কথায় রাজি হয়ে পুনরায় একটি ভিডিও দেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগের ভিডিওসহ নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় হুমকি দেন। এবং তার সাথে শারীরিক মিলামেশা করার প্রস্তাব দেন।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ আছে, গত ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫ টার সময় ভুক্তভোগী ওই নারী বাড়িতে একায় অবস্থান করেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। এবং দরজা বন্ধ করে ওই নারীকে জাপটে ধরেন ও খাটে শুয়ান। এরপর তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য বাধ্য করেন। এ সময় ওই নারীকে কোন চিৎকার করতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাতে থাকা ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে চিৎকার করায় তাকে হত্যার এবং বিষয়টি পুলিশ ও অন্য কাউকে জানালে গোসলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ওই নারী ফোন কেটে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ও তার পরিচিত একজন সাক্ষীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান ভুক্তভোগী। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৪ জুলাই থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকে আদালতের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে নালিশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে গত ২৩ জুলাই আদালতে নালিশ দায়ের করেন তিনি। নালিশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চাই।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত মো: আনারুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।