পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
শিরোনাম
সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক ১ টঙ্গীতে সাংবাদিক হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান ঈদের ভিজিএফের চাল পাচারের অভিযোগে উত্তাল কারপাশা, জব্দ ৭০ বস্তা চাল এতিমখানায় দিল প্রশাসন মেধা ও স্বচ্ছতায় পুলিশে চাকরি পেলেন ২৫ তরুণ তরুণী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করলেন কুড়িগ্রাম ২ আসনের এমপি ড. আতিক মুজাহিদ। আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা: “মাথা উঁচু করে দ্রুত ফিরব দেশে” সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পথে চেক প্রতারণার মামলায় আটক ইউপি চেয়ারম্যান লিটন। রাসিক প্রশাসক এর সাথে নবাগত আরএমপি পুলিশ কমিশনার এর শুভেচ্ছা বিনিময়
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

ঈদের ভিজিএফের চাল পাচারের অভিযোগে উত্তাল কারপাশা, জব্দ ৭০ বস্তা চাল এতিমখানায় দিল প্রশাসন

আল-আমিন হাসান
আল-আমিন হাসান , উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা-এর কারপাশা ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অতিদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের আগেই সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে—অসাধু জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগী একটি চক্রের যোগসাজশে প্রকৃত হকদারদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রস্তুত করা তালিকার আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও বিক্রির পরিকল্পনা করে। এ ঘটনার জেরে রাতের আঁধারে চাল পাচারের চেষ্টা চালানো হলে সচেতন

এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে ৭০ বস্তা ভিজিএফের চাল জব্দ করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত চাল প্রশাসনের হেফাজতে কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কারপাশা ইউনিয়নের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড বিতরণের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনেক বৈধ কার্ডধারী অভিযোগ করেন, তালিকায় নাম এবং হাতে কার্ড থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে ঈদের আগে তারা চাল পাননি। পরবর্তীতে পাচারের সময় উদ্ধার হওয়া চাল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

এদিকে, মঙ্গলবার (১৯ মে) মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি জব্দকৃত ৭০ বস্তা চাল স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের জন্য হস্তান্তর করেন। সরকারি সম্পদ অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করে তা এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণে ব্যবহারের এ সিদ্ধান্ত সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি ত্রাণের এই চাল গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার চেয়ে এতিম ও দুস্থ শিশুদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল সবচেয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত। তবে চাল পাচারের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”